দেবী দুর্গার কথা
বাংলার ঘরে ঘরে দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এ এক আবেগ, এক প্রতীক্ষার নাম। পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুর নামক অসুর তপস্যাবলে অপরাজেয় হয়ে দেবতাদের স্বর্গচ্যুত করেছিল। তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর সহ সকল দেবতা নিজ নিজ তেজ একত্র করে সৃষ্টি করলেন এক অপরূপ শক্তির — দেবী দুর্গাকে।
প্রতিটি দেবতা দেবীকে দান করলেন নিজের অস্ত্র ও শক্তি — এভাবেই জন্ম নিলেন দশভুজা, যিনি নয় দিন ধরে যুদ্ধ করে দশম দিনে বধ করলেন মহিষাসুরকে। সেই বিজয়ের স্মরণেই প্রতি বছর শরৎকালে পালিত হয় এই মহোৎসব — অশুভের উপর শুভের, অন্ধকারের উপর আলোর চিরন্তন জয়গাথা।
দেবীর দশভুজা মূর্তি
বাহন সিংহ
দেবীর বাহন সিংহ শক্তি ও সাহসের প্রতীক, যার উপর ভর করে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।
দশ হাতে দশ অস্ত্র
ত্রিশূল, চক্র, শঙ্খ, ধনুক-বাণ, গদা, তরবারি সহ দেবতাদের দেওয়া অস্ত্রে সজ্জিত তাঁর দশ হাত।
চার সন্তান
লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ — দেবীর সঙ্গে প্রতিমায় পূজিত হন তাঁর চার সন্তান।
ত্রিনয়নী
তৃতীয় নয়ন জ্ঞান ও দূরদৃষ্টির প্রতীক, যা দিয়ে দেবী বিশ্বজগতের কল্যাণ-অকল্যাণ প্রত্যক্ষ করেন।
পূজার পাঁচ পুণ্যদিন
ষষ্ঠী — বোধন ও কল্পারম্ভ
মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বিল্ববৃক্ষের নিচে দেবীর বোধন সম্পন্ন হয়। কাঠামোর চক্ষুদান সম্পন্ন করে দেবীকে জাগ্রত করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় পাঁচ দিনের মহোৎসব।